নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ মে, ২০২৬, 5:16 PM
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে যুবক খুন, বস্তাবন্দী লাশ নিয়ে পালানোর সময় খাদে গাড়ি, আটক ২
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মোটরসাইকেল নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে প্রাইভেট কারে গুম করার চেষ্টা চালানোর সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। পরে স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
মঙ্গলবার
রাত সাড়ে ৮টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর গ্রামের সাতৈর-মহম্মদপুর সড়কের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত
রবিউল ইসলাম মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্ধাইন গ্রামের গোলাম সরোয়ার শেখের ছেলে। তিনি পেশায় পাওয়ার ট্রিলারচালক ছিলেন।
পুলিশ
ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারীর হাটখোলারচর গ্রামের শহিদুল শেখের সঙ্গে দুই বছর আগে মহম্মদপুর উপজেলার সিন্ধাইন গ্রামের সাহিদুল ইসলামের মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের
দাম্পত্য কলহ চলছিল। সম্প্রতি শহিদুল তাঁর শ্যালকের একটি মোটরসাইকেল বন্ধক রাখেন। এ নিয়ে দুই
পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
নিহতের
মামা মুসা মোল্যা জানান, প্রতিবেশী সাহিদুল ইসলামের অনুরোধে মঙ্গলবার দুপুরে রবিউল মোটরসাইকেল আনতে তাঁর সঙ্গে বোয়ালমারীতে যান। রবিউল মোটরসাইকেল চালাতে জানতেন বলে তাঁকে সঙ্গে নেওয়া হয়। সেখানে মোটরসাইকেল ফেরত নেওয়াকে কেন্দ্র করে শহিদুল ও তাঁর পরিবারের
সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তাঁরা ফিরে আসার পথে ফোন করে আবার ডেকে নেওয়া হয়। এরপর পরিকল্পিতভাবে রবিউলকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
তিনি
আরও বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের সঙ্গে আমার ভাগনের আগে কোনো শত্রুতা বা পরিচয় ছিল
না।
পুলিশ
সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা একটি
ভাড়া করা প্রাইভেট কারে মরদেহ তুলে গুম করার চেষ্টা করছিল। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ঘটনাটি
সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে স্থানীয় লোকজন গাড়ি উদ্ধারে এগিয়ে গিয়ে ভেতরে বস্তাবন্দী গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।
এ
সময় গাড়িতে থাকা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন পালিয়ে গেলেও শাহজাদা (২৩) ও তপু সাহা
(২২) নামে দুজনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।
আটক
শাহজাদা বোয়ালমারী উপজেলার আন্দারকোঠা গ্রামের বাসিন্দা। তপু সাহা একই উপজেলার পঙ্কজ সাহার ছেলে।
নিহত
রবিউলের বাবা গোলাম সরোয়ার শেখ বলেন, আমার
ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার
চাই।
ফরিদপুরের
সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, নিহত রবিউলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত শহিদুল শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।