নিমাত উল্লাহ
০৭ মে, ২০২৬, 3:30 PM
ঈদে দেশে ফেরার স্বপ্ন অপূর্ণ, কফিনবন্দি হয়ে ফিরছেন শাওন
আড়াই বছর পর বাড়ি ফেরার কথা ছিল শাওন মির্জার (২৫)। মা ঝর্না বেগমকে কথা দিয়েছিলেন, এবারের ঈদুল আজহার নামাজ তিনি নিজ এলাকার মসজিদেই আদায় করবেন। সেই আশায় গত এক মাস ধরে দিন গুনছিলেন মা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—শাওন ফিরছেন ঠিকই, তবে জীবিত নয়; কফিনবন্দি এক নিথর দেহ হয়ে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া মহল্লার মৃত জাহিদ মির্জার চার সন্তানের মধ্যে শাওন ছিলেন সবার ছোট। অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আড়াই বছর আগে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে প্রতি মাসে পরিবারের জন্য টাকা পাঠাতেন তিনি।
গত এপ্রিলের এক সন্ধ্যায় ভিডিও কলে মা ঝর্না বেগমকে শাওন বলেছিলেন, মা, ভিডিও কলে তোমাদের দেখে আর মন ভরে না। এবারের কোরবানির ঈদের আগেই আমি বাড়ি চলে আসব।
ছেলের এমন কথায় নতুন করে আশার আলো দেখেছিলেন মা। পরিবারের সদস্যরাও অপেক্ষায় ছিলেন বহুদিন পর প্রিয় মানুষটিকে বরণ করে নেওয়ার। কিন্তু সেই অপেক্ষা পরিণত হলো শোকে।
গত সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় সৌদি আরবে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন শাওন। জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি একটি খেজুর গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
শাওনের চাচাতো ভাই সাগর মির্জা বলেন, শাওন খুবই পরিশ্রমী ছেলে ছিল। আড়াই বছরে একবারের জন্যও দেশে আসেনি। পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছে। তার মতো হাসিখুশি ও পরোপকারী মানুষের অকাল মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, পুরো এলাকায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাড়ার মোড়ে মোড়ে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র চাওয়া, দ্রুত যেন শাওনের মরদেহ দেশে আনা হয়।
এ বিষয়ে ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশীক সিদ্দিকী বলেন,
“শাওন একজন বৈধ শ্রমিক হিসেবে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি যে কোম্পানিতে কাজ করতেন, তারা পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে। এছাড়া মরদেহ দেশে আনার পর সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে ৩৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পরিবার চাইলে মরদেহ আনার সম্পূর্ণ ব্যয়ও সরকার বহন করবে।”
স্বপ্ন ছিল ঈদে মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই প্রবাসের মাটিতে ঝরে গেল এক তরুণ প্রাণ। এখন পুরো পরিবার অপেক্ষা করছে—শেষবারের মতো প্রিয় শাওনকে নিজের মাটিতে ফিরিয়ে আনার।