ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
বোয়ালমারীতে সড়ক ঘেঁষে কিন্ডারগার্টেনের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের অভিযোগ ইসরায়েলি হামলায় নিহত প্রবাসী দীপালীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে যুবক খুন, বস্তাবন্দী লাশ নিয়ে পালানোর সময় খাদে গাড়ি, আটক ২ ঈদে দেশে ফেরার স্বপ্ন অপূর্ণ, কফিনবন্দি হয়ে ফিরছেন শাওন বিয়ে না দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ছিল অভিযুক্ত আকাশের শিক্ষার্থীদের টিফিনে কাঁচা কলা, সহকারী শিক্ষক বরখাস্ত ট্রলি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, প্রাণ গেলো স্বামী-স্ত্রীর বিয়ে না দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ছিল অভিযুক্ত আকাশের ২১ দিনে মা, গণপিটুনিতে মরল বাবা; ২ বছরের মুসলিমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফরিদপুর-২ : ১১ দলীয় জোটের পক্ষে ভোট চাওয়ায় মাদরাসা শিক্ষককে ছাঁটাইয়ের অভিযোগ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  7:15 PM

news image

সালথা সংবাদদাতা:  সালথা উপজেলায় ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে রিকশা প্রতীকে ভোট চাওয়ার অভিযোগে এক কওমী মাদরাসা শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনা নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক হলেন হাফেজ মো. মুকতার হুসাইন (৫০)। তিনি সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া রহমানিয়া তালতলা মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক এবং নগরকান্দা উপজেলার ইশ্বর্দী গ্রামের বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সালথা উপজেলা খেলাফত মজলিস কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হাফেজ মুকতার হুসাইন অভিযোগ করেন, ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ায় তাকে মাদরাসা থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমি মাদরাসায় ক্লাস নিচ্ছিলাম। এ সময় মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা হেদায়েত উল্লাহর ভাই কাইয়ুম মোল্যা ও স্থানীয় ফজলুল মাতুব্বর আমাকে ক্লাসরুম থেকে ডেকে নেন। তারা জানতে চান—আমি কি রিকশা মার্কায় ভোট চেয়েছি ও হুজুরের নির্বাচনী সভায় অংশ নিয়েছি কিনা। আমি সত্য স্বীকার করলে কাইয়ুম মোল্যা আমাকে গালাগালি ও হুমকি দেন। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আমার বকেয়া বেতন পরিশোধ করে আমাকে বিদায় করে দেয়। আমি এই ঘটনার ন্যায় বিচার চাই।”

এ ঘটনায় ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সালথা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. তরিকুল ইসলাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা আকরাম আলী হুজুরের পক্ষে ভোট চাওয়ার কারণে আমাদের এক কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালথা ও নগরকান্দায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। বিরোধী পক্ষের হুমকি ও চাপের মুখে তাদের নেতাকর্মীরা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার মোহতামিমের ভাই কাইয়ুম মোল্যা। তিনি বলেন, “ওনাকে কোনো হুমকি বা গালাগালি করা হয়নি। তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। তিনি আগেও একবার মাদরাসা থেকে চাকরি ছেড়ে গিয়েছিলেন। এছাড়া ক্লাস চলাকালে ছাত্রদের কাছে রিকশা মার্কায় ভোট চাইতেন এবং তাদের পরিবারকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এতে মাদরাসার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। তাই আমরা তাকে ভোট চাইতে নিষেধ করেছি। পরে তিনি নিজেই ক্ষুব্ধ হয়ে মাদরাসা ত্যাগ করেন।”

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয়। তারা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এমনকি অভিযোগ বাক্সেও কোনো আবেদন জমা পড়েনি।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে সালথায় নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

logo সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রিজাউল হক