রাজু আহমেদ
২৮ এপ্রিল, ২০২৬, 4:33 PM
আলফাডাঙ্গায় সাংবাদিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পারিবারিক কলহ নাকি অন্য কোনো রহস্য
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক সাংবাদিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যার প্রাথমিক অভিযোগ উঠলেও ঘটনাটিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত আরমানুজ্জামান রাজু (৩০) দৈনিক স্বদেশের কণ্ঠ পত্রিকার আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পৌর সদরের কলেজ রোড এলাকার এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি কক্ষের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রাজুকে দেখতে পান তারা। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। এ ঘটনার জেরে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনাই মৃত্যুর একমাত্র কারণ কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের পরই বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজুর মৃত্যুতে আলফাডাঙ্গার সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীরা জানান, তিনি অত্যন্ত কর্মঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যু কেউই সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৬ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান ও দেড় বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।
থানা চত্বরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সামনে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দুই অবুঝ সন্তানের নির্বাক উপস্থিতি উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক। সাংবাদিক সমাজও এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।