ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্টের রায় মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষপ নিতে আলফাডাঙ্গায় মানববন্ধন ৫৪ বছর পর বাড়ি ফিরলেন সাগরে হারিয়ে যাওয়া জেলে বোয়ালমারীতে ভাতিজার বিরুদ্ধে জমি ও পুকুর দখলের অভিযোগ, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ টাকা বোয়ালমারীতে সড়ক ঘেঁষে কিন্ডারগার্টেনের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের অভিযোগ ইসরায়েলি হামলায় নিহত প্রবাসী দীপালীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে যুবক খুন, বস্তাবন্দী লাশ নিয়ে পালানোর সময় খাদে গাড়ি, আটক ২ ঈদে দেশে ফেরার স্বপ্ন অপূর্ণ, কফিনবন্দি হয়ে ফিরছেন শাওন বিয়ে না দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ছিল অভিযুক্ত আকাশের

বজ্রপাতে ৭ জেলায় ১৪ জন নিহত

#

ডেস্ক রিপোর্ট

২৬ এপ্রিল, ২০২৬,  11:01 PM

news image

দেশের  বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বজ্রপাতে সাত জেলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।           রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক পৃথক ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, সিরাজগঞ্জে দুইজন, জামালপুরে দুইজন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুইজন, বগুড়ায় একজন, নাটোরে একজন এবং পঞ্চগড়ে একজন রয়েছেন।

গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে নিহতরা হলেন ফুয়াদ হাসান (৩৫), রাফি চৌধুরী (৮) ও মিজানুর রহমান (১৮)। এদের মধ্যে রাফি ও মিজান সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। একই ঘটনায় শামীম (১৭) আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির সময় টিনশেড ঘরে আশ্রয় নেওয়ার পর হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ফুয়াদ হাসানের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর রাফি ও মিজানুর রহমান মারা যান।

অপরদিকে, সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে ছাগল আনতে গিয়ে নাব্বার আলী (৬৫) নিহত হন। ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়ার চরে ভুট্টা বহনের সময় বজ্রপাতে মানিক মিয়া (৪৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই এলাকায় আলী আকবর (৭০) আহত হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।

তাড়াশ উপজেলার বেত্রাশীন গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) বজ্রপাতে মারা যান।

রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান এলাকায় ধান জড়ো করার সময় বজ্রপাতে হাসান শেখ (২৫) নিহত হন।

জামালপুর

জামালপুরের সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

সদর উপজেলার চরযথার্থপুর এলাকায় গরু চরাতে গিয়ে হাসমত আলী হাসু (৫৫) মারা যান।

মেলান্দহ উপজেলার কড়ইচুড়া গ্রামে রান্না করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা আক্তার (২২) আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এ ঘটনায় শেফালী বেগম আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বগুড়া

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মুচিখালী গ্রামে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।

নিয়ামতপুর গ্রামে লাবণী আক্তার (৩৫) গরুর ঘাস কেটে ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান।

অন্যদিকে, কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলী (৩৭) জমিতে ফসল দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন।

নাটোর

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঠ্যাঙ্গা পাকুরিয়া গ্রামে চলনবিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে চা-বাগানে পাতা সংগ্রহের সময় বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামে এক চা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বজ্রপাতে মৃত্যু: ইসলামের দৃষ্টিতে কি শহীদের মর্যাদা ?

বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিশেষ করে বর্ষা ও মৌসুমি ঝড়ের সময়ে গ্রামাঞ্চলে মাঠে কাজ করা কৃষক, শ্রমিক কিংবা সাধারণ মানুষ এ দুর্ঘটনার শিকার হন। সাম্প্রতিক সময়েও দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের মৃত্যু ইসলামের দৃষ্টিতে “শহীদি মৃত্যু” কি না—এ প্রশ্ন অনেকের মনেই উঠে আসে।

ইসলামে শহীদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। সাধারণভাবে আমরা মনে করি, কেবলমাত্র আল্লাহর পথে যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিই শহীদ। তবে হাদিস শরীফে শহীদের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত এক হাদিসে মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেন:

“পাঁচ ধরনের মানুষ শহীদ—প্লেগে মৃত, পেটের রোগে মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত এবং আল্লাহর পথে নিহত ব্যক্তি।”

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তিই নয়, বরং কিছু আকস্মিক ও কষ্টকর মৃত্যুকেও ইসলামে শহীদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বজ্রপাতের কারণে মৃত্যুর কথা সরাসরি এখানে উল্লেখ নেই।

এ বিষয়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে কিছু ভিন্নমত রয়েছে। অনেক আলেমের মতে, বজ্রপাত এক ধরনের আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তাই এটি ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া বা হঠাৎ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে। এ কারণে তারা বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির জন্য “শহীদের সওয়াবের আশা করা যায়”।

তবে অন্য একটি মত হলো—যেহেতু বজ্রপাতের বিষয়টি সরাসরি সহিহ হাদিসে উল্লেখ নেই, তাই নিশ্চিতভাবে তাকে শহীদ বলা যাবে না। বরং বলা উচিত, আল্লাহ চাইলে তাকে শহীদের মর্যাদা দান করতে পারেন।

ইসলামের মূল শিক্ষা হলো, মানুষের আমল ও নিয়তের ওপরই তার চূড়ান্ত প্রতিদান নির্ভর করে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা করেছেন, তিনি সর্বাধিক ন্যায়পরায়ণ এবং তিনি কারও প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না।

সুতরাং বলা যায়, বজ্রপাতে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিকে সরাসরি শহীদ ঘোষণা না করলেও, তার জন্য শহীদের সওয়াবের আশা করা যায়। পাশাপাশি তাদের জন্য দোয়া করা, মাগফিরাত কামনা করা এবং পরিবার-পরিজনের পাশে দাঁড়ানোই মুসলমানদের দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা সকল মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমা করুন এবং তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন—আমিন।

উল্লেখ্য, আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

logo সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রিজাউল হক